গাজা উপত্যকার ৯৭ শতাংশ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার চাষযোগ্য জমির মাত্র ৩ শতাংশ এখনো অক্ষত রয়েছে এবং কৃষকেরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারছেন। সামরিক নিষিদ্ধ এলাকার পরিধি বাড়তে থাকায় স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে গুরুতর বিপর্যয়ের আশঙ্কাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা—এফএও এবং জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার—ইউনোস্যাটের যৌথ ভৌগোলিক মূল্যায়নে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুনের শেষ দিকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়নটি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্ষত ও ব্যবহারযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৬০১ হেক্টর ছিল। ২০২৬ সালের জুনের শেষে তা কমে মাত্র ৪৪৮ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আট মাসে ব্যবহারযোগ্য কৃষিজমি ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার মোট কৃষিজমির প্রায় ২৭ শতাংশ এলাকায় বর্তমানে প্রবেশ করা সম্ভব। তবে এসব জমির অধিকাংশই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পুনরায় উৎপাদনক্ষম করে তুলতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।
কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্রিনহাউসগুলোও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ গ্রিনহাউস ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানকার ৯৭ শতাংশের বেশি চাষযোগ্য জমি এখন কৃষকদের নাগালের বাইরে।
এফএও বলেছে, সাম্প্রতিক অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ কৃষিজমিতে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ। গাজা সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যবর্তী তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেওয়ায় কৃষকদের প্রবেশাধিকার আরও সংকুচিত হয়েছে।
সার, বীজ ও জ্বালানির তীব্র সংকট
এফএওর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা বিভাগের প্রধান রেইন পলসেন বর্তমান অবস্থাকে ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃষকেরা যেন নিরাপদে নিজেদের জমিতে যেতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পান—তা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গাজার স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা আরও কমে যাবে।
জমিতে প্রবেশের বাধার পাশাপাশি গাজার কৃষক ও পশুপালকেরা সার, বীজ, জ্বালানি এবং পশুখাদ্যের তীব্র সংকটে ভুগছেন। এফএওর মতে, সীমান্ত ক্রসিংগুলোতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কৃষি খাত গাজার অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করত এবং ৫ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের জীবিকার উৎস ছিল।
কৃষিজমিতে প্রবেশের ওপর অব্যাহত নিষেধাজ্ঞা এবং স্থানীয়ভাবে খাদ্য উৎপা