ভয়াবহ চর্মরোগে আক্রান্ত ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি নারীরা
ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের মধ্যে স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক সংগঠন প্রিজনার্স ক্লাব। সংগঠনটি পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে বন্দিদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রিজনার্স ক্লাব জানায়, ইসরায়েলের ড্যামন কারাগারে সাম্প্রতিক পরিদর্শনের সময় অন্তত ১০ জন নারী বন্দির শরীরে স্ক্যাবিসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ওই কারাগারে ৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নারী বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা বন্দিও রয়েছেন।
সংগঠনটির দাবি, কারাগারে বিদ্যমান অস্বাস্থ্যকর পরিবেশই রোগটির বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত আর্দ্রতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর সংকট, অতিরিক্ত বন্দি, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাব এবং পোশাকের তীব্র সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রিজনার্স ক্লাবের ভাষ্য, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে স্ক্যাবিসের বিস্তারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে রোগটির সংক্রমণ অব্যাহত থাকলেও এর কারণগুলো দূর করতে কারা কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
চিকিৎসার অভাবে বাড়ছে জটিলতা
সংগঠনটির অভিযোগ, আক্রান্ত বন্দিদের অনেকেই তীব্র চুলকানি, ফোঁড়া, ত্বকের ক্ষত ও প্রদাহে ভুগছেন। দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি ও ব্যথার কারণে অনেকের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে এবং কারও কারও চলাফেরার সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের শারীরিক কষ্ট বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রিজনার্স ক্লাব আরও দাবি করেছে, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে কিছু বন্দির শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, স্ক্যাবিসের জটিলতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুতর স্বাস্থ্যগত ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয়ে সংগঠনটি ফিলিস্তিনি শিশু মুহাম্মদ হামিদ-এর ঘটনাও উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে একটি জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে, যা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি স্নায়ুতন্ত্রেও গুরুতর প্রভাব ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়।
আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে প্রিজনার্স ক্লাব।
সংগঠনটি কারাগারগুলোতে রোগ ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং বন্দিদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে রোগ বিস্তারের জন্য দায়ী নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রিজনার্স ক্লাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩৫০ শিশু এবং ৩ হাজার ২৪৪ জন প্রশাসনিক আটক ব্যক্তি রয়েছেন। এছাড়া গাজা থেকে আটক ১ হাজার ৩২০ জনকে ইসরায়েল ‘অবৈধ যোদ্ধা’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।